ওয়ারশ চুক্তি (১৯৫৫): ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়, যা ইতিহাসে “ শীতল যুদ্ধ ( আরো পড়ুন ) ” নামে পরিচিত। এই সময়ে বিশ্ব দুটি প্রধান শক্তি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে আদর্শগত, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। পশ্চিমা বিশ্বে গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়, অন্যদিকে পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এই দ্বন্দ্বের ফলে উভয় পক্ষই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক জোট গঠন শুরু করে। পশ্চিমা শক্তির নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালে NATO ( আরো পড়ুন) গঠিত হলে তার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৫৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে ওয়ারশ চুক্তির সৃষ্টি হয়। এই চুক্তি শীতল যুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। ওয়ারশ চুক্তির সংজ্ঞা ও গঠন: ১৯৫৫ সালের ১৪ মে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ শহরে পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা “ওয়ারশ চুক্তি” নামে পরিচিত। এটি ছিল বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সামরিক সহায়তার একটি সংগঠন। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য...
ন্যাটো (NATO): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী যেন এক নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড়ায়। ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো—বিশেষ করে ব্রিটেন ও ফ্রান্স—যুদ্ধের ধাক্কায় দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, সামরিক শক্তিও আগের মতো থাকে না। এই শূন্যস্থান পূরণ করতে সামনে আসে দুটি নতুন পরাশক্তি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়া। এখান থেকেই শুরু হয় এক নতুন ধরনের সংঘাত, যা ইতিহাসে “ শীতল যুদ্ধ ( আরো পড়ুন) ” নামে পরিচিত। ন্যাটোর পটভূমি: এই সময়ে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে একটি বড় ভয় কাজ করতে থাকে। তারা মনে করতে থাকে, সোভিয়েত রাশিয়া তার প্রভাব ধীরে ধীরে ইউরোপে ছড়িয়ে দিতে পারে। “লাল ফৌজ” যে কোনো সময় পশ্চিম ইউরোপে প্রবেশ করতে পারে—এই ধারণা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন করে তোলে। ফলে প্রশ্ন উঠে—কীভাবে নিজেদের রক্ষা করা যাবে? এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ বিদেশ সচিব আর্নেস্ট বেভিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিনি মনে করেন, শুধু ইউরোপীয় দেশগুলো একা সোভিয়েত শক্তির মোকাবিলা করতে পারবে না; তাদের আমেরিকার সাহায্য দরকার। এই চিন্তা থেকেই একটি সম্মিলিত সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনা সামনে আসে। ন্যাটোর...